রাজবাড়ীর প্রথম সারির পৌরসভা পাংশা পৌরসভা। কিন্তু পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে বয়ে চলেছেন এ দুর্ভোগের ভার। একটু বৃষ্টি নামলেই থেমে যায় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। চলাচল হয়ে যায় অস্বাভাবিক। শিশুদের রাখতে হয় চোখে চোখে। চোখের পলকেই যেন না ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বর্ষার মৌসুম আসলেই বৃষ্টির পানি উঠে যায় ঘরে। রান্নাঘর থেকে শুরু করে শোবার ঘর পর্যন্ত ভেসে যায় বৃষ্টির পানিতে। সাপ, পোকামাকড়ের সঙ্গে একই ঘরে করতে হয় বসবাস। এমন বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের।
নারীরা হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে রান্না করেন, পুরুষেরা অফিস বা বাজারে যাওয়ার আগেই ভিজে যান। ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের জন্য স্কুলে যাওয়া হয়ে পড়ে এক বিভীষিকাময় যাত্রা। দিনের পর দিন এমনই জীবন যাপন করছে ১ম সারির পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
একজন মা বলছিলেন,”বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর আগে চারদিকে ভালো করে দেখি, যদি সাপ থাকে কোথাও। প্রতিটা রাত কাটে ভয়ে। প্রথমে বাড়ি উঠানে, তারপর রান্নাঘরে, তারপর শোবার ঘরের মধ্যেও পানি ঢোকা শুরু করেছে। আমরা অনেক বিপদে রয়েছি! আমাদের দেখার মত কেউ নেই। আমরা এই বিপদ থেকে মুক্তি চাই।
এই চরম দুর্ভোগের মূল কারণ হলো নেই কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পানি নামার পথ নেই, নর্দমা গুলি বন্ধ বা অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে। যা আছে, তা অনেক আগেই অকেজো হয়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। এই কার্যকরী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করলেই এই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে ৬নং ওয়ার্ডের বসবাসকারী বাসিন্দারা। তাদের একটাই দাবি, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক। তারা আর কোন প্রতিশ্রুতি চায় না, চায় বাস্তব পরিবর্তন। নাগরিক হিসেবে তারা চান সুস্থ, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য একটি পরিবেশ। এই দাবি আজ শুধুমাত্র এক এলাকার নয়, এটি একটি ন্যায্য নাগরিক অধিকার।
পাংশা পৌরসভার এই মানুষগুলোও আশায় বুক বাঁধে, একদিন হয়তো এই কষ্টের শেষ হবে, একদিন হয়তো কারো নজরে পড়বে তাদের এ কান্না।