রাজবাড়ীর সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে সাথী আক্তার (২৯) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রুবেল খাঁ’র বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১ টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সাথী আক্তারের মৃত্যু হয়।
নিহত সাথী আক্তার সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মধূরদিয়া গ্রামের বিশু ফকিরের মেয়ে।
সাথী আক্তারের বাবা বিশু ফকির বলেন, ১০ বছর আগে রুবেল খাঁ’র সাথে আমার মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়।তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার জামাই রুবেল শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো, মারধর করতো। বিয়ের পর আমার জামাই রুবেল আমার মেয়েকে মারধর করে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গতকাল আমার জামাই রুবেল আমাকে ফোন দিয়ে বলে যে আমার মেয়ে হারপিক খেয়েছে, সে হাসপাতালে ভর্তি। পরে আমি সদর হাসপাতালে গিয়ে পাইনি। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তার নাক মুখ দিয়ে ফুপড়ি উঠছে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে সেখানে না রেখে ঢাকায় রেফার্ড করে। পরে আমরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশু ফকির আরও বলেন, আমার মেয়েকে আমার জামাই রুবেল বিয়ের পর থেকেই মারধর করতো। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পিছনে আমার জামাই দায়ী। আমার জামাই রুবেল তাকে হত্যা করেছে। আমি এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিবো। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
দাদশী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন শেখ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এখানে এসে এলাকাবাসীর মুখ থেকে যেটা শুনতে পেলাম সেটা হলো গতকাল বিকাল ৪ টার দিকে ওই মহিলা অসুস্থ হয়। পরে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুরে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু তার শারিরীক অবস্থার আরও অবনতি হলে ফরিদপুর থেকে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। আমি ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীর স্বামীকে খোঁজখুজি করেছিলাম। কিন্তু তাকে পাইনি।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মহিলাটি বিষ খেয়ে মারা গিয়েছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হবে।