প্রশাসনের মাইকিং, ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি—কোনোটিই যেন কাজে আসছে না। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকা থেকে নবাবগঞ্জ বাজারের নিমতলা পর্যন্ত প্রধান সড়কে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন দাঁড় করানো, ইজিবাইক ও সিএনজির স্ট্যান্ড, যত্রতত্র পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ সদর চত্বর থেকে বাজারের নিমতলা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের জট। কোথাও ইজিবাইক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে, কোথাও আবার সড়কের ওপরই চলছে যাত্রী ওঠানামা। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজট দীর্ঘ হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর চত্বর ও বাগমারা সেতুর ঢালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যাচ্ছে।
ইজিবাইক যত্রতত্র না রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও অনেক চালক তা মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যস্ত সড়কেই ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর চিত্র দেখা গেছে।
যানজটের পাশাপাশি ফুটপাত দখলও বাড়িয়েছে ভোগান্তি। সড়কের পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ফলের দোকানসহ একাধিক ফুডকোর্ট ও অন্যান্য দোকান। ফলে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই অনেক স্থাপনা আবার ফিরে আসে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারির অভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থায়ী ফল দিচ্ছে না।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মাঝিরকান্দা বাসস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়, বাগমারা সেতুর ঢাল, গার্লস স্কুলের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ ও ভূমি অফিসের মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি প্রায়ই দেখা গেলেও যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ তাদের।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে জরিমানা ও মামলা করার কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের দাবি, শুধু মাইকিং বা মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের ওপর ইজিবাইক ও সিএনজির স্ট্যান্ড বন্ধ, যত্রতত্র পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘদিনের এই যানজট ও সড়কের বিশৃঙ্খলা থেকে স্থায়ী মুক্তি চান নবাবগঞ্জবাসী। দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।