সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, দেশের মানুষ বিশ্বাস করে চা শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। বর্তমানে ১২০ টাকা মজুরি এখন আর বিশ্বের উচ্চ মূল্যের কাছে কিছুই না। এ সময় একজন শ্রমিক ১২০ টাকা দিয়ে না চাল কিনতে পারে, না ডাল কিনতে পারে, না মাছ কিনতে পারে।
তিনি বলেন, যে শ্রমিকদের কোন আয় নেই তারা দিন আনে দিন খায়। আর তারা যখন কোনো আন্দোলন করতে যায় তখন মালিকরা তাদের খাবার বন্ধ করে দেয়। ফলে তাদের আন্দোলন খুব বেশি স্থায়ী হয় না। চা শ্রমিকদের ওপর যেভাবে নির্যাতন হচ্ছে এটা অনেকটা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকদের মতো। চা চাষ এখন নীল চাষের মতো অবস্থা।
বুধবার (১৭ আগস্ট) ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। এ সময় তিনি সবাইকে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে চা শ্রমিকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আপনারা জেনেছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিক ভাই-বোনরা হরতাল ও আন্দোলন করছেন। কারণ তারা বছরের পর বছর ধরে মালিকদের নির্যাতন সহ্য করে আসছেন। মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে তারা বহুদিন ধরে কাজ করে আসছেন। এখন সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী। তাদের দাবি এখন তারা ৩০০ টাকা করে মজুরি চান। তারা চার-পাঁচ দিন ধরে হরতাল করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষ থেকে তাদের ডিমান্ড মেনে নেওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। সরকার থেকে কোন উদ্যোগ আছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। আমি একটা কথা বলতে চাই, যেহেতু আমার বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট। আমাদের এই এলাকায় কতগুলো চা বাগান আছে সেটা আমি জানি। হবিগঞ্জে মোট ২৪টি চা বাগান। এর মধ্যে ১৭টি চা বাগানই চুনারুঘাটে।
সুমন আরও বলেন, এ কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার এলাকা চুনারুঘাটের ১৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা যতদিন আন্দোলন করে যাবে আমি খাদ্য সামগ্রী দিয়ে তাদের পাশে থাকব। পাশে দাঁড়াবোই। চাল, ডাল, আটা আমার যতটুকুই আছে তাই নিয়ে চা শ্রমিকদের পাশে থাকব। কারণ আমি চাই না শুধু খাবারের অভাবে এ ধরণের যৌক্তিক আন্দোলন নষ্ট হয়ে যাক।