রাজধানীর সব ট্যাপের পানিতে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়ায় বোঝাই, এজন্যে ডায়রিয়া বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলছেন—এ কারণেই ৬২ বছরের মধ্যে এত রোগী আইসিডিডিআর,বি’তে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আজ শনিবার বিএনপির মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
ফখরুল বলেন, ‘এই যে ডায়েরিয়া হচ্ছে; ৬২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া এখন হচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি গতকাল বলেছে যে, ৬২ বছরে এত রোগী কখনও আসেনি। কেন এত রোগী? কারণ, পানিতে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া-বোঝাই। এর ফলে আজকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার লোকের ডায়রিয়া হচ্ছে।’
বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘ওয়াসার যে এমডি, (তিনি) ১০ বছরের বেশি সময় আছেন। তাঁকে বাংলাদেশে সব কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি বেতন দেওয়া হয়। পাঁচ লাখ টাকার ওপরে বেতন পান তিনি। তাঁকে অনেক বার সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ সরাতে পারেনি। কারণ, তিনি আমাদের সরকার প্রধানের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এভাবে সব জায়গা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পর্যন্ত নিজেদের লোক বসিয়ে রাখা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভাগ করে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো কিছু দেখেন না। যার ফলে গোটা দেশকে আজকে আপনারা দলীয়করণ করে ফেলেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ রোজার মাসে আমরা একটা শসা কিনতে পারি না, এ রোজার মাসে আমরা একটি বেগুন কিনতে পারি না। দুঃখ হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের রান্নার নতুন রেসিপি দেন। সে রেসিপিটা কী? তিনি বলেছেন যে, মিষ্টি কুমড়া দিয়ে বেগুনি বানাও।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যখন তারা পারছে না বেগুন দিতে, যখন তারা পারছে না শসা দিতে, যখন তারা পারছে না চাল-ডাল দিতে, তখন তারা এ সব কথা বলছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘গতকাল তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বিএনপির কারসাজি আছে। সব সময় তিনি এটা বলেন এবং বলেন যে, যা কিছু ঘটে তার পেছনে না-কি বিএনপি আছে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিই যদি সব কিছু ঘটাতে পারে, তাহলে তোমরা ক্ষমতায় আছ কেন? ক্ষমতা ছেড়ে দাও। বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দাও।’
‘মুষ্টিমেয় কয়েকটা লোককে বড়লোক করার জন্য গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে তারা ব্যবহার করছে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের তারা গ্রেপ্তার করছে, সাজা দিচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি মতিঝিলে শ্রমিক দলের প্রোগ্রাম থেকে ইশরাক হোসেনের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। প্রত্যেকটি অর্থনৈতিক খাতে চরম দুর্নীতি চলছে। এরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এবং শুধু ব্যর্থ নয়, এরা দেশের ক্ষতি করছে। তাই আর এক দিন-দুদিন যদি এদের রাখা যায়, এ দেশের অস্তিত্ব থাকবে না।’
মির্জা ফখরুল সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের সংগঠিত করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ুন কবির খান, ফিরোজ-উজ-জামান মোল্লা, শ্রমিক দলের আবুল খায়ের খাজা, আবুল কালাম আজাদ, মেহেদি আলী খান, জাহাঙ্গীর আলম, আসাদুজ্জামান বাবুল, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, জুলফিকার মতিন, কাজী আমীর খসরু, খোরশেদ আলমসহ নেতবৃন্দ বক্তব্য দেন।