ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রের কক্ষে গিয়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে স্টাম্পের আঘাতে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একটি মিথ্যা অভিযোগে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিজয় একাত্তর হলের পদ্মা ব্লকের ২০১০ নম্বর কক্ষে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আখলাকুজ্জামান অনিক।
তাঁর অভিযোগ, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাশফি উর রহমান মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা করিয়েছেন।
মাশফি ছাড়া অন্য তিন হামলাকারী হলেন- অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সফিউল্লাহ সুমন ওরফে পিটার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাব্বির আল হাসান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাইমুর রশিদ। এই তিনজন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সবাই ছাত্রলীগের কর্মী।
ঘটনার বিষয়ে আখলাকুজ্জামান অনিক জানান, গত শুক্রবার বিকেলে আমি ও আমার বিভাগের ছোট ভাই জাদীদ বিজয় একাত্তর হলের সামনে নাটকের ব্যানার টাঙাতে যাই। তখন কিছু শিক্ষার্থী সেখানে আসেন। তাঁদের সঙ্গে আমারও কুশলাদি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে মাশফি নামের এক ছাত্র আমাকে বলেন, ‘আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিন দিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেখা হয়েছিল। ’ কিন্তু আমি তাঁকে চিনতে পারিনি। দীর্ঘদিন ধরে আমি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাই না।
পরবর্তী সময়ে শুক্রবার রাত ৮টার সময় মাশফিসহ কিছু শিক্ষার্থী জাদীদের কক্ষে যান। মাশফি জাদীদকে বলেন যে আমার সঙ্গে তাঁর ঝামেলা। মাশফি আরো বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুজন বন্ধুসহ আমি নাকি তাঁকে তাঁর প্রেমিকার সামনে ডেকেছি। আমার বন্ধুরা নাকি তাঁকে জেরা ও মারধর করেছেন আর আমি নাকি ভিডিও করেছি।
তিনি আরো বলেন, শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী আমার কক্ষে গিয়ে কোনো কিছু না বলেই টানাহেঁচড়া শুরু করেন। আমাকে কক্ষ থেকে বের করে লাথি-ঘুষি ও নানাভাবে আঘাত করতে থাকেন। এমনকি চেক করার কথা বলে আমার মুঠোফোনটিও নিয়ে নেন তাঁরা। ঘণ্টা দুয়েক পর মুঠোফোনটি ফেরত পাই। পরে আমার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান আখলাকুজ্জামান। তিনি জানান, স্টাম্পের আঘাতে তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়েছে।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মাশফি উর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। আখলাকুজ্জামান অনিক ভুল বলছেন।
এ ঘটনায় গতকাল বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আখলাকুজ্জামান।