শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পুলিশের ধাওয়ায় চাঁন মিয়া হাওলাদার (৪০) নামে এক ইতালী প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে একটি মারামারির ঘটনার অভিযোগের তদন্তে গেলে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে ধাওয়া করে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। ঘটনার তদন্তে বিকালে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। এই ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত চাঁন মিয়া হাওলাদার পন্ডিরসার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ফজল হক হাওলাদারের ছেলে এবং নিহত চাঁন মিয়া একজন ইতালী প্রবাসী।
নিহতের পরিবার, স্থানীয় ও নড়িয়া থানা পুলিশ সুত্র জানায়, ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দক্ষিন পাড়া গ্রামের মৃত ফয়জুল হক হাওলাদার এর ছেলে চানমিয়া হাওলাদার (৪০) ২০১২ সালে স্পন্সরে ইতালিতে পাড়ি জমান। চানমিয়া হাওলাদার গত দুই মাস আগে ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসেন।
গত ১৮ মার্চ নড়িয়া বাজারে গেলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে নড়িয়ার নলতা ও চাকধ গ্রামের তুহিন পেদা এবং রুবেল পেদাসহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জন হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র শস্ত্র লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন। এসময় তার সাথে থাকা টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসা দেয়।
এ ঘটনার পর গত সোমবার (২১ মার্চ) ঘড়িসার গরুর হাট মসজিদের সামনে তুহিন পেদা ও রুবেলা পেদাসহ অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে আবার চানমিয়াকে মারপিট করে। পরে নড়িয়া থানায় উল্টো চান মিয়া হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করে।
অভিযোগের বাদী তুহিন, রুবেল পুলিশ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চান মিয়া হাওলাদারের বাড়িতে যায়। তখন চান মিয়া হাওলাদার বাড়ির ব্যালকনিতে বসা ছিল।
পুলিশের ভয়ে বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে থাকে। তখন ঐ মুহুর্তে মামলার বাদী তুহিন, রুবেলসহ পুলিশ তাকে ধরার জন্য পিছে পিছে দৌড়াতে থাকে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিলের মধ্যে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন চান মিয়া হাওলাদার।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ ও অভিযোগকারীদের ধাওয়ায় প্রবাসী চাঁন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত চান মিয়ার স্ত্রী পায়েল বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী গত ১৮ মার্চ নড়িয়া বাজারে গেলে পূর্বশত্রুতার জেরে নলতা গ্রামের তুহিন পেদা এবং রুবেল পেদাসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন আমার স্বামীকে মারধর করে। সোমবারও তারা আমার স্বামী হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা ঘড়িষার বাজারে আসে। মঙ্গলবার আবার তুহিন পেদা এবং রুবেল পেদা নড়িয়া থানা পুলিশের এসআই ইকবাল ও কনেস্টবল নাজিমউদ্দিনরা আমার বাড়িতে এসে আমার স্বামীকে ধাওয়া করে। পরে আমরা বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ফসলি জমিতে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করি।
আমার স্বামীর অবস্থা খারাপ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রথমে ঘড়িষার এবং পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনা জানতে নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনী সংকর বলেন, একটি অভিযোগ তদন্তে এসআই ইকবাল ঘটরাস্থলে গেলে চাঁন মিয়া দৌড়ে পালায়। পরে তদন্তকারী অফিসার চলে গেলে জানা যায় চাঁন মিয়া মারা গেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনআনুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।