সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পল্লী বিদ্যুতের জগন্নাথপুর জোনাল কার্যালয়ের এজিএমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জগন্নাথপুরের বটেরতলা এলাকায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে এজিএম ঋষিকেশ বিশ্বাসের কাছে এবং পরে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হাজারো বিদ্যুৎ গ্রাহকের পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকার বিশিষ্টজন রসিক মিয়া, মুহিম খান, শফিকুর রহমান তুহুর, মিজানুর রহমান আক্কাছ, মাওলানা মাহিদুল ইসলাম, তোফায়েল আহমদ, মিজান হোসেন, মাসুম আহমদ, সানাউর রহমান সোহেল, ফাহিম আহমদ ও ছামি আহমদসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, তীব্র গরমের মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ায় পানির মোটর চালাতে সমস্যা হচ্ছে, শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ঋষিকেশ বিশ্বাস বলেন, “বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন একটি সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “লোডশেডিংয়ের বিষয়ে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”