আর্লিং হালান্ড যেন গোল করার মিশনেই নেমেছেন। জাতীয় দলের হয়ে টানা ষষ্ঠ ম্যাচেও জোড়া গোল করে নরওয়েকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলে দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২৩ জুন মঙ্গলবার সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।
১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার কৃতিত্বে বড় ভূমিকা রেখেছেন হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ড।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে নরওয়ে শেষ ষোলোয় উঠলেও ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৪৩তম মিনিটে ইনজুরিতে আক্রান্ত এক সতীর্থের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেন মার্কুস পেডারসেন।
বিরতির পর শুরু হয় হালান্ড শো। ৪৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। পাঁচ মিনিট পর ইসমাইলা সার গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরালেও ৫৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়ের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন হালান্ড। ইনজুরি সময়ে সার আরও একটি গোল করলেও হার এড়াতে পারেনি আফ্রিকার দলটি।
অসাধারণ ছন্দে থাকা হালান্ড জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন ৫৯-এ। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে তিনি করেছেন ১২ গোল, প্রতিটি ম্যাচেই জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন।
নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন চার।
এই জয়ে ‘গ্রুপ আই’ থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার মুখোমুখি হবে দুই দল।
গ্রুপসেরা হলে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, পরাজিত হলেও এখনও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়নি সেনেগাল। সাদিও মানের দল বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেল।
তবে তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরবর্তী পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে জয় পেতেই হবে তাদের।