ঢাকাSunday , 1 March 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

ঋণ পুনঃতফসিলের প্রভাব রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ সুদে বিনিয়োগে ভাটা

Link Copied!

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ সুদহারের প্রভাবে জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন, আর ব্যাংকগুলোও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

#New_Classic_Event_Management

বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ৬.১ শতাংশ থেকে জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এই হার ছিল ১০.১৩ শতাংশ, যা ধীরে ধীরে কমে এসেছে।

নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে বেড়ে ৬.৫৮ শতাংশে উঠেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি উৎপাদনমুখী নতুন বিনিয়োগের ফল নয়; বরং ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিলের প্রভাব ছিল। জানুয়ারি-জুন ২০২৬ মেয়াদের মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কঠোর মুদ্রানীতি, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের বেশি ঋণ নেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে।


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে—সেপ্টেম্বরে ৬.২৯ শতাংশ, আগস্টে ৬.৩৫, জুলাইয়ে ৬.৫২, জুনে ৬.৪০, মে মাসে ৭.১৭ এবং এপ্রিলে ৭.৫ শতাংশ ছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত কমতে শুরু করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, ব্যবসায় আস্থার ঘাটতি ও ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় জয় পেলেও অনেক ব্যবসায়ী এখনো সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন।

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি উচ্চ সুদহার কমানোর উদ্যোগের কথা বলেন। পাশাপাশি বন্ধ শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর ওপর জোর দেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, দীর্ঘদিনের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে সরে আসতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হলেও কিছু আমানতে প্রায় একই হারে সুদ দিতে হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মার্জিনে ঋণ বিতরণ করতে হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, উচ্চ সুদহার বিনিয়োগে বাধা হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। বিনিয়োগকারীরা গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনা করেন। বর্তমানে অবকাঠামো সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান ব্যবসায়ীরাই সম্প্রসারণে এগোতে পারছেন না; সেখানে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তার মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আগে অবকাঠামো সমস্যার সমাধান করতে হবে, এরপর সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি