টানা দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার সকালে ৩.৩ মাত্রা এবং সন্ধ্যায় ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে উৎপত্তিস্থল সাভার বলা হলেও পরে জানানো হয়, এটি নরসিংদীর পলাশ এলাকায়।
ভূতত্ত্ববিদরা জানান, সাম্প্রতিক কম্পনগুলো প্লেটের লক খুলে যাওয়ার ইঙ্গিত। এর মানে—শক্তি বের হতে থাকবে এবং বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাবসডাকশন অঞ্চলে ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা আছে, যা যেকোনো সময় ঘটতে পারে।
ভূমিকম্পের পর রাজধানীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপত্তার কারণে ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়ান। কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের বিশ্লেষণে ভুল ছিল—মূল ভূমিকম্প নরসিংদীর পলাশেই হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। অপরিকল্পিত ভবন, জনঘনত্ব, সড়কসংকট ও বিল্ডিং কোড না মানার কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার অর্ধেকের বেশি কংক্রিট ভবন উচ্চ ঝুঁকিতে আছে।
নরসিংদীতে দেড় শতাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাঁচজন মারা গেছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ছোট ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে, তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।