পালিত হচ্ছে আলোচিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনটি বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন স্মরণ করছে এবং পুনরায় বিচার দাবি তুলছে।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কুরআনের অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমবেত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা। সেই সময় সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সরকারি সূত্রে ওই অভিযানের বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ছিল “অপারেশন সিকিউরড শাপলা” এবং “অপারেশন ক্যাপচার শাপলা”। অন্যদিকে কিছু মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, “অপারেশন ফ্লাশ আউট”-এ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার সে সময় ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর থেকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিচার দাবিটি আবারও জোরালো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দাখিল করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ৭ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য এলাকায়ও তদন্ত চলছে।
দিনটি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চললেও বিচার ও তদন্তের অগ্রগতি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।