নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
২৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. সেলিম শাহী জানান, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে অদিতার গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার মা রাজিয়া সুলতানা মামলা করেন।
ঘটনার দিন প্রাইভেট পড়ে দুপুরে বাসায় ফেরার পর অদিতা একাই ছিল। পরে তার মা বাসায় এসে দরজায় তালা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে তিনি মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
পরে পুলিশ অভিযানে আবদুর রহিম রনিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি অপরাধ স্বীকার করে জানান, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি লুকাতে তিনি অদিতাকে হত্যা করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যার আলামত উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়।
মামলায় মোট ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং আসামিপক্ষ থেকেও পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
নিহতের মা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন আদালতে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।