চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক অস্ত্রধারী যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে থাকা যুবকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের একজন হতে পারে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয়রা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিহত মাসুদ বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। ঘটনার সময় ওই অস্ত্রধারীকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কারা ও কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রধারী যুবকের ছবিটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ছবির সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।