বগুড়ার শেরপুর থানায় এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ মামুন (পিকআপচালক) নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের নূর মোহাম্মদ মামুন তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান। ওই সময় তিনি কর্তব্যরত এসআই রোখসানা খাতুনকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মামুনের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা থানায় উপস্থিত হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ থানায় এমন আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিরুদ্ধে আগেও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, এসআই রোখসানা খাতুন থানায় যোগদানের পর থেকে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা শুনেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্যও দাবি করেন, তার আচরণের কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়।
শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে যুবককে আটক রাখার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন দাবি করেন, তিনি কোনো ধরনের অসৌজন্য আচরণ করেননি। শুধু সম্বোধনকে কেন্দ্র করে তাকে থানায় আটক রাখা হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।