পরিবারে ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষ করে সন্তানদের প্রতি আচরণ, ভালোবাসা ও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ হতে ইসলাম জোর দেয়। অনেক সময় আবেগ বা বিশেষ কারণে বাবা-মা কোনো এক সন্তানকে বেশি কিছু দিয়ে দেন, যা অন্য সন্তানদের প্রতি অবিচার হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
নিচের হাদিসে মহানবী (সা.) সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন—
عَنْ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُوْلُ أَعْطَانِيْ أَبِيْ عَطِيَّةً فَقَالَتْ عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ لَا أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّيْ أَعْطَيْتُ ابْنِيْ مِنْ عَمْرَةَ بِنْتِ رَوَاحَةَ عَطِيَّةً فَأَمَرَتْنِيْ أَنْ أُشْهِدَكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَعْطَيْتَ سَائِرَ وَلَدِكَ مِثْلَ هَذَا قَالَ لَا قَالَ فَاتَّقُوْا اللهَ وَاعْدِلُوْا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ قَالَ فَرَجَعَ فَرَدَّ عَطِيَّتَهُ.
আমির (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু‘মান ইবনে বাশীর (রা.)-কে মিম্বরে বলতে শুনেছি—আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাক্ষী না রাখলে আমি এতে সন্তুষ্ট নই। এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার এই ছেলেকে আমি কিছু দান করেছি। তিনি আমাকে আপনাকে সাক্ষী রাখতে বলেছেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব সন্তানকেই কি এভাবে দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে সমতা বজায় রাখ।’ এরপর তিনি ফিরে গিয়ে সেই দানটি ফিরিয়ে নিলেন। (বুখারি, হাদিস: ২৫৮৭)
এই হাদিস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। সন্তানদের মধ্যে ভালোবাসা, উপহার বা সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। নু‘মান ইবনে বাশীর (রা.)-এর পিতা তাকে আলাদা করে কিছু দান করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আসে, তখন তিনি জানতে চান অন্য সন্তানদেরও কি একইভাবে দেওয়া হয়েছে। যখন জানা গেল তা করা হয়নি, তখন তিনি সতর্ক করে বলেন—‘আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর।’
এ থেকে বোঝা যায়, বাবা-মায়ের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিবারে হিংসা, কষ্ট ও বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইসলামে সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই শিক্ষা শুধু সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভালোবাসা, যত্ন ও আচরণের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। যে পরিবারে ন্যায় ও সমতা বজায় থাকে, সেখানে শান্তি, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।