ঢাকাSaturday , 21 February 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

একুশের চেতনা হারাচ্ছে ন্যায্যতার আলো জাগানোর আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট
February 21, 2026 5:26 pm
Link Copied!

একুশে ফেব্রুয়ারি দেখলে মনে হয়, আমাদের শৈশবের সেই আন্তরিক ও ভাবগম্ভীর স্মৃতি অনেক দূরে চলে গেছে। বিশেষ করে গত দশক দুয়েকের উদযাপনে আমরা সেই মূল চেতনা—ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গের প্রতিজ্ঞা—খুঁজে পাই না।

#New_Classic_Event_Management

আমার জন্মের দুই মাসের মধ্যে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকেশ্বরীতে ঘটে সেই ভয়ানক ঘটনা। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের শাসন থেকে সদ্য মুক্ত দেশেও নিজের ভাষার অধিকার রক্ষায় মিছিল করা নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর সরকারি বাহিনীর গুলি চালানো হয়। তাদের শহীদ হওয়া আজও বাংলা জাতির গর্ব ও বেদনার স্মৃতি। আমি জীবনের শুরুতেই সেই দিনের বাতাসে শ্বাস নিয়েছি, এবং আমার রক্ত-মাংস, হৃদয়-মন-মস্তিষ্কে একুশের চেতনা মিশে আছে।

বাল্যকাল থেকেই আমি ভোরে খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শহীদ ভাষাসৈনিকদের স্মৃতিতে দোয়া পড়েছি। এই মিনারের উদ্দেশ্য ছিল জাতিকে পথ দেখানো, ন্যায্যতার চেতনা ও মূল্যবোধ জীবন্ত রাখা। আমাদের একুশের পার্বণও মূলত সেই চেতনার প্রকাশ।


কিন্তু আজকাল একুশে উদযাপন হয়ে উঠেছে আড়ম্বরপূর্ণ, পদক বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যৌবনের অশ্লীল মিলনমেলায়। সে সময়ের আন্তরিক, ভাবগম্ভীর ও শোকাহত হৃদয়ের চেতনাটি চোখে পড়ে না। একুশের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, যার পুনরুজ্জীবন দরকার জাতির মর্যাদা রক্ষার জন্য।

বাংলার জাতীয় পার্বণগুলো, যেমন নববর্ষ, ঈদ, দুর্গাপূজা বা মাতৃভাষা দিবস, সবই ঐতিহ্য ও মূল মূল্যবোধ থেকে উদ্ভূত। তবে সময়ের সঙ্গে তা বিকৃত বা অপসংস্কৃতিক রূপ ধারণ করছে। একুশের মূল চেতনা হলো ‘ইনসাফ’, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। বাংলার মানুষ এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে।

একুশের পার্বণে মূল চেতনা, ন্যায্যতা ও মাতৃভাষার মর্যাদা সকল অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হতে হবে। শুধুমাত্র রূপচর্চা বা ভাস্কর্য তৈরি নয়, বরং এই চেতনা ও মূল্যবোধ জীবন্ত রাখাই একুশের প্রকৃত উদ্দেশ্য। বাংলার ঐতিহ্যবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি যেন চিরস্থায়ী স্মৃতিময় আলোর মিনার হয়ে থাকে, যা জাতিকে ন্যায্যতা, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় প্রেরণা জোগায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি