শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। ঘটনার এক সপ্তাহ কেটে গেলেও রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজের আমদানি শাখার ভেতরে থাকা সুরক্ষিত ভল্ট বা স্ট্রং রুমের তালা ভেঙে এই লুটের ঘটনা ঘটে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২৮ অক্টোবর সকালে কর্মকর্তারা দেখতে পান—কার্গো ভিলেজের ভেতরে একটি ভল্টের তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ঐ ভল্টেই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আমদানি করা ৬৭টি আধুনিক পিস্তল, ১২টি শর্টগান, একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, ১৩৮টি পিস্তলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র সরঞ্জাম।
ঘটনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং পরে পুলিশ ভল্ট থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সামগ্রী হেফাজতে নেয়।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪ অক্টোবর একাধিক সংস্থার উপস্থিতিতে ভল্টটি পরীক্ষা করে সিলগালা করা হয়েছিল এবং নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ করা হয়। তবুও কীভাবে তালা ভাঙা হলো—সে প্রশ্নে হতবাক বিশেষজ্ঞরা।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বিমানবন্দর এমন এক জায়গা যেখানে প্রতিনিয়ত সিসি ক্যামেরা নজরদারি ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সবকিছু পরিচালিত হয়। তাই অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়।”
১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডে কার্গো ভিলেজের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বহু সিসি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে কারা, কীভাবে স্ট্রং রুমে ঢুকে তালা ভেঙেছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুলিশ ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে, তবে কতসংখ্যক অস্ত্র বা উপকরণ লোপাট হয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
বিমান মন্ত্রণালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কিন্তু তারাও এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না—কত পরিমাণ অস্ত্র ও সামগ্রী হারিয়ে গেছে।
ঘটনাটি বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হতে পারে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার ইঙ্গিত উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।