মঙ্গলবার ১৩ মে ২০২৫ তারিখ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৯ মে ২০২৫ তারিখ ভোররাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরে ৭৫ জন বাংলাদেশি মুসলিম এবং ৩ জন ভারতীয় মুসলিমকে জোরপূর্বক পুশ ইন করা হয়। তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন যাবৎ ভারতের গুজরাট রাজ্যে বসবাস করে আসছিল এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ গভীর রাতে ভারতীয় প্রশাসন তাদের বাসা থেকে আটক করে এবং গত ৯ মে ২০২৫ তারিখ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভোররাতে গোপনে সুন্দরবনের মান্দারাড়ি চরে রেখে যায়।
পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিরা মান্দারবাড়িয়া চর হতে মান্দারবাড়ি ফরেস্ট অফিসে এসে আশ্রয় নেয়। ফরেস্ট অফিস কর্তৃক কোস্ট গার্ডকে অবহিত করলে গত ১০ মে ২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন অতিদ্রুত পুশ ইন করা ৭৮ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করতঃ প্রয়োজনীয় খাবার ও ঔষধ সামগ্রী সরবরাহ করে।
যারা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল তারা আরও বলেছে যে, ভারতীয় পুলিশ তাদের বস্তিতে অভিযান চালিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাদের চোখ বেঁধে একটি সামরিক বিমানে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্য একটি সামরিক বিমানে করে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। পরে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের জাহাজে করে বাংলাদেশের সুন্দরবনের একটি জায়গায় রেখে যায় এবং জাহাজে থাকাকালীন তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন, অমানবিক আচরণ, ধর্মীয়ভাবে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হয় না এবং এখন পর্যন্ত তারা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সঠিক অবস্থান জানে না।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১১ মে ২০২৫ তারিখ সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।