টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রধান শিক্ষকের ব্যবহারের জন্য কেনা খাট এখন সভাপতির বাড়িতে। এলাকায় এ ব্যাপারে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে, এটা স্কুল থেকে চুরি হয়ে গেছে। কেউ বলছে, এটা সভাপতির বাড়িতে রাখা আছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করলে। একেক জন একেক রকম মন্তব্য করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও বিদ্যালয়ের অর্থ সচিব শাহাদাত হোসেন বলেন,খাট টি আমি সাথে থেকে কিনে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে বিদ্যালয় থেকে খাটটি উধাও ! এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। সাবেক আরেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শহিদুর রহমান শংকর জানান,খাটটি আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের জন্য কিনেছিলাম। কারণ ওনার বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায়, এখানে থাকার জন্য। কিন্তু কোন এক কারনে হেডমাস্টার সাসপেন্ড হওয়ার পরে,সেই খাট আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খাট টি কোথায় আছে বা চুরি হয়েছে কিনা সেটা বের করা হোক।
এ ব্যাপারে সাসপেন্ড থাকা প্রধান শিক্ষক এ টি এম আবদুল মতিন বলেন,আমি ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজে থাকাকালীন সময় স্কুল কমিটি থেকে ১০ হাজার টাকা ও আমার থেকে ১০ হাজার টাকা, মোট ২০ হাজার টাকা দিয়ে খাট ক্রয় করা হয়। আমি ম্যানেজিং কমিটির কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং ভুয়া কিছু অভিযোগ এনে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমাকে সাসপেন্ড করে সরিয়ে দেওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি সহকারী হেডমাস্টার নিয়োগ দেয়। আমি জানতে পেরেছি আমি চলে আসার পর আমার ব্যবহৃত খাট, গ্যাসের চুলা, গ্যাসের বোতল,স্কুল থেকে বের করে বিদ্যালয় ক্ষমতাশীল কারো বাড়িতে রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে । আমি চাই এটার সঠিক তদন্ত করে স্কুলের সম্পত্তি স্কুলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে ফতেপুর ময়নাল হক উচ্চ বিদ্যালয় এর নাইট গার্ড মোঃ সোহেল কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কিছুই চুরি হয়নি। গ্যাসের চুলা ও গ্যাসের বোতল স্কুলে রাখা আছে। শুধু খাট ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজের এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ্ মাজমুল হক মাসুম (চাঁন ময়না)স্যারে বাসায় রাখা আছে।
এ ব্যাপারে অত্র এলাকার সাধারণ জনগণের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, স্কুলের খাট সভাপতি কেন ব্যবহার করবে? এর একটা বিচার হওয়া দরকার। ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি তার ক্ষমতা অপব্যবহার একের পর এক অনিয়ম কার্যক্রম চালাচ্ছে। সকল বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।