মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে নির্মিত সেতুর রেলিং ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন টাঙানো হয়েছে। ৪৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির পুরো রেলিংই যেন বৈদ্যুতিক খুঁটি হয়ে পড়েছে। এতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সেতুটির এক পাশে বালুচর, অপর পাশে চর বালুচর গ্রাম। সরেজমিন পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়াও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত বহু অটোরিকশা, ইজিবাইক এবং ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়।
চর বালুচর গ্রামের আলম মিয়া ও আক্কাস আলী বলেন, বালুচর ইউনিয়নসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সেতু ব্যবহার করে ঢাকা আসা-যাওয়া করেন। সেতুটির রেলিংয়ে লোহার ক্যাপ লাগিয়ে বিদ্যুতের লাইন টাঙানোর ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অটোরিকশা চালক আফজাল হোসেন বলেন, সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। অনেক শিশু-কিশোরকে রেলিং ধরে চলাচল করতেও দেখা যায়। অসাবধানতাবশত কেউ লোহার ক্যাপ ছুঁয়ে ফেললে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুটি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার টাঙানোর তথ্য জানা নেই এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।
সিরাজদীখান উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষও তাঁকে জানায়নি। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেবেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিরাজদীখান জোনাল অফিসের ডিজিএম খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিকল্প সঞ্চালন লাইন করা হয়েছে। শিগগিরই আমরা ওই লাইনটি সরিয়ে ফেলব।’ একই তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম (কারিগরি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।