ডেঙ্গিজ্বরে মৃত্যুহার অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় একটু বেশি। শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হলেও বয়স্করাও আক্রান্ত এবং মৃত্যু থেকে দূরে নয়। এ সময়ে হঠাৎ করে উচ্চমাত্রার জ্বর হলে সাধারণ ভাইরাস জ্বর না ভেবে ডেঙ্গিজ্বরের কথাও স্মরণে রাখতে হবে।
কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন
আমরা সবাই জানি যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ আছে, কিডনি ও লিভারের রোগী, ইমিউনোসাপ্রেসিভ ড্রাগ যারা খাচ্ছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা ট্রান্সপ্লান্টের রোগী, গর্ভবতী ও ক্যানসারের রোগীরাই ডেঙ্গিজ্বরে বেশি ভোগেন। তবে এ সময় যাদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা লাগছে তাদের পূর্বে এক বা একাধিকবার ডেঙ্গি হয়েছে অর্থাৎ তারা ডেঙ্গিজ্বরের সেরোটাইপ ডেন-৪-এ আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে সাধারণ ভাইরাস জ্বর বা ফ্লু ভেবে ডেঙ্গিজ্বরের পরীক্ষা করাচ্ছে না বা চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করছে তারাই জটিলতা নিয়ে হাসপাতলে ভর্তি হচ্ছে।
ডেঙ্গিজ্বরের মারাত্মক লক্ষণ
উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে রোগী অনেক দুর্বল হয়ে গেছে, কোনো কিছু খেতে পারছে না, আবোল-তাবোল বকছে বা মূর্ছা যাচ্ছে যা ব্রেইন ইনফেকশন এনকেফালাইটিস থেকে হতে পারে, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করছে যা হার্টের রোগ মায়োকার্ডাইটিস থেকে হচ্ছে, পেট ব্যথা বা ফুলে যাচ্ছে-তারা এক মুহূর্ত দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি হবেন। এ সময়ে ডেঙ্গিজ্বরে রোগীর পেট খারাপ বা পাতলা পায়খানা বেশি হতে দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগীই হঠাৎ করে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গি সিনড্রোম নিয়ে আসছে অর্থাৎ একাধিক অঙ্গ ফেইলিউর বা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীরা ক্রিটিক্যাল স্টেজে ঢুকে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসা
যাদের এ মারাত্মক লক্ষণের সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গিক রোগ দীর্ঘমেয়াদে থাকে তাদের মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। ডেঙ্গিজ্বরের চিকিৎসা এখনো সার্পোটিভ অর্থাৎ উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ প্রদান করা হয়। ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টই প্রকৃত চিকিৎসা। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা দরকার। ডাক্তার রোগীর অবস্থা, ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন ও তার অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এ ফ্লুইড প্রদান করে থাকেন। রক্তের হিমাটাক্রিট ও হিমোগ্লোবিন দেখে ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়, প্লাটিলেট দেখে নয়। যেমন যাদের ইমপেনডিং হার্ট ফেইলিউর আছে তাদের ক্রিস্টয়েড স্যালাইন দেওয়া যায় না। ক্রিটিক্যাল ফেজে যখন রোগীর রক্তনালীর ভেতরের ফ্লুইড দুই কোষের মাঝে জমা হয় সে সময় বাইরে থেকে বেশি ফ্লুইড দিলে রোগীর ফ্লুইড ওভারলোড হয়। এর ফলে রোগীর একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে গিয়ে মৃত্যুর সমূহ আশঙ্কা থাকে। ডেঙ্গিজ্বরের সঙ্গে কো-ইনফেকশন অর্থাৎ ডেঙ্গির সঙ্গে টাইফয়েড জ্বর, ডেঙ্গির সঙ্গে নিউমোনিয়া থাকলে চিকিৎসা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল