ঢাকাWednesday , 26 October 2022
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আবেদন, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অধিদপ্তরের চিঠি

Link Copied!

ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৯৮ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে বরাদ্দের আবেদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বপক্ষে তথ্য চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১ কোটি ত্রিশ লাখ ৮৪ হাজার ৬ শত টাকা বরাদ্দের পরেও অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে ৯৮ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৫ টাকা। অথচ এর কোন দৃশ্যমান প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া করোনা খাতে প্রতিদিন ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা বাবদ যে খরচ দেখানো হয়েছে তা অবাস্তব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে মনে করছেন নিতিমালা বহির্ভূত এমন অতিরিক্ত খরচ উদ্দেশ্যমূলক। এর সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেছেন অনেকে।

#New_Classic_Event_Management

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, এখানে যে পরিমান খরচ দেখিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বরাদ্দের পর অতিরিক্ত এত টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তা অনেকেরই জানা নেই। এদিকে বরাদ্দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থ পরিচালক ডা: মো. আমিনুল ইসলাম মিয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো. জসিম উদ্দিনকে প্রেরণ করা হয়। যার নং ৩৫৩৪। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিগত অর্থবছরের দেয়া ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত এরুপ বরাদ্দ পাওয়া যাবে মর্মে সংগ্রহ করা পিপিআর ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ বিধিমালা ২০১৫ এর ৫ নং (ঘ) অনুচ্ছেদ পরিপন্থি।

অনুমোদিত বাৎসরিক ক্রয় পরিকল্পনায় ক্রয়কৃত আইটেমগুলো অন্তর্ভূক্ত কিনা জানতে চাওয়া হয়। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় কোভিড সংক্রান্ত আলাদা কোড আছে বিধায় এখাতে খরচ করা কোন সুযোগ নেই। তাহলে কিভাবে নীতিমালা অমান্য করে এমন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়।


অনুসন্ধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মতকর্তার স্বাক্ষরিত মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদনে দেখা যায় বিভিন্ন সামগ্রীববদ ৯৮ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় করা হয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে । (আবেদন নং ৫১৩/১) এরমধ্যে শাহিন ফার্মেসি থেকে ৩৩,৫১,০০০ টাকার নন-ইডিসিএল ঔষধ, কুইক এন্টারপ্রাইজ থেকে লিলেন সামগ্রী ও সার্জিক্যাল পন্য বাবদ ৬,৫১,৮০০ ও ৩,৫৫,১৮০০ টাকা। এবিসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল থেকে গজ বেন্ডেজ তুলা বাবদ ৩,৩৭,৯৫০ টাকা, আসবাবপত্র বাবদ ১৬,৬৭৬৫০ টাকা ও কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বাবদ ৩,২৮,০৭৫ টাকার মালামাল ক্রয় করা হয়। তবে এই মালামালের দৃশ্যমান তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. জসিম উদ্দিন বরাদ্দটি বাতিলের কথা জানালেও কোন প্রজ্ঞাপন দেখাতে পারেননি। তার আবেদনে ক্রয়কৃত পন্য ব্যবহার হয়েছে উল্লেখ করলেও তিনি প্রতিবেদককে বলেন পন্যগুলো হাসপাতালে রয়েছে বরাদ্দ না পেলে ফেরৎ দেয়া হবে। ৯৮ লাখ টাকার মালামাল আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন কিছু কমবেশি থাকতে পারে। নিয়মবহির্ভূত আবেদন কেন করা হয়ছে জানতে চাইলে ডাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, সাইন কিভাবে করা হয়েছে তা আমার মনে নেই। এখন সাইন নকল করা যায়। তিনি আরও বলেন এসব বিষয় আমি ঢাকা গিয়ে সমাধান করেছি। বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

নিয়ম বর্হিভূত খরচ দেখিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আবেদন, অধিদপ্তরের চিঠি
নিয়ম বর্হিভূত খরচ দেখিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আবেদন, অধিদপ্তরের চিঠি
নিয়ম বর্হিভূত খরচ দেখিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আবেদন, অধিদপ্তরের চিঠি

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানিনা। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তবে এটি দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন কবে টেন্ডার হয় এসকল তথ্যও আমাকে জানানো হয়নি।
নিয়মবহির্ভূত এমন আবেদনের বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খানের মোবাইল নাম্বারে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি