আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধন হবে দেশের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর সেতুটি উন্মুক্ত হবে সর্বসাধারণের জন্য। এরইমধ্যে গাড়ি না থামিয়েই টোল পরিশোধের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে পদ্মাসেতুর টোলপ্লাজায়। এজন্য সেতুর দুই প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে মোট ১৪টি ইলেক্ট্রনিকস টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ। এই বুথগুলো বসিয়েছে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন। আর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল পরিশোধে যানবাহনের সামনে লাগাতে হবে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড।
যানবাহনের সামনের অংশের ড্যাশবোর্ডে থাকা ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে সাদা রঙের এই প্রি-পেইড কার্ডে মাত্র দুই-তিন সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া হবে।
সূত্রমতে, প্রাথমিকভাবে দুই প্রান্তে একটি করে মোট দুটিতে চালু থাকছে ইটিসি। আর আটটি টোলপ্লাজায় টোল আদায় করা হবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। বাকি চারটি চালু করা হবে পরে। আরএফআইডির জন্য যত নিবন্ধন বাড়বে তত বুথ ইটিসির আওতায় আসবে। কারণ ইটিসি বুথ চালু করলেই হবে না, যানবাহনগুলোকে আরএফআইডির জন্য নিবন্ধনও বাড়াতে হবে।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য যানবাহনে অবশ্যই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদিত সচল আরএফআইডি ট্যাগ থাকতে হবে। গাড়ির মালিক ব্যাংকে বা টোলপ্লাজায় গিয়ে আরএফআইডির জন্য সরাসরি নিবন্ধন করাতে পারবেন। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের মালিকদের অবশ্যই হিসাব থাকতে হবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অথবা রকেট মোবাইল অ্যাকাউন্টে। রকেট অ্যাকাউন্টটি নেক্সাস-পে অ্যাপ্লিকেশনটিতে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর তারা ইলেকট্রনিক টোল দেওয়ার এ সুবিধা পাবেন।
প্রসঙ্গত, পাঁচ বছরের জন্য পদ্মা বহুমুখী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে যৌথভাবে কোরিয়া ও চীনের দুটি কোম্পানি। কোম্পানি দুটি হলো— কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি) এবং চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। কোম্পানি দুটি এজন্য মোট পাবে ৬৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।