করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর নানা ধরনের বিধিনিষেধে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় উঠে গেছে কঠোর বিধিনিষেধ, বিদেশের দরজাও খুলেছে। এই সুযোগে ঈদের ছুটিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গেছেন অন্তত ১০ লাখ বাংলাদেশি!
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালীন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবার ঈদের সময়টায়। তা ছাড়া এ বছর ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি থাকায় আশপাশের বিভিন্ন দেশে বেড়াতে গেছেন লাখ লাখ পর্যটক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক গেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।
বিদেশ ভ্রমণের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ভারত। প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি দেশটির ভিসা নিয়েছেন, যা বিদেশে যাওয়া মোট পর্যটকের অর্ধেক। ভারতের পরেই রয়েছে যথাক্রমে নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দুবাই ও তুরস্ক।
ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো জানায়, ভিসার জন্য আবেদনকারীর চাপ বেশি থাকায় জনবল ও অফিস সময় বাড়ানো হয়। বন্ধের দিনেও চালু থাকছে ভিসা কার্যক্রম, আগে বেলা ১টা পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও ঈদের সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থল ও আকাশপথে প্রতিবেশী ভারতে যাওয়া-আসাটা তুলনামূলকভাবে সহজ। দেশটির ভিসা পাওয়াও অনেক সহজ। এসব কারণে ভারতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন অনেক ভ্রমণপিপাসু।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আউট বাউন্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম কাদির বলেন, করোনায় গত দুই বছরে মানুষ কার্যত ঘরবন্দী। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অনেকে দেশের বাইরেও বেড়াতে গেছেন, দেশেও বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।
বিপুল সংখ্যক মানুষের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য পরিকল্পনা করে টাকা জমিয়ে থাকেন। করোনায় দীর্ঘদিন মানুষ কোথাও ঘুরতে যেতে না পারায় এবার বিদেশমুখী হয়েছেন। এ ছাড়া কম টাকায় ভারতে বেড়াতে যেতে পারেন যে কেউ।
করোনার আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ। এর মধ্যে চিকিৎসা, ভ্রমণ ও কেনাকাটার কাজে যাওয়া লোকজনের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে এবার ঠিক কত পর্যটক বিদেশে গেছেন তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।