সৌরজগতের সবচেয়ে বামন গ্রহ প্লুটোতে দেখা মিলেছে বরফের আগ্নেয়গিরির। এতে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার ধারণা করছে নাসা। নিউ হরাইজনস মিশনে তোলা একটি ছবি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য দিয়েছে তারা। নাসা বরাতে এ তথ্য দিয়েছে নেচার কমিউনিকেশনস জার্নাল।
১৬ বছর আগে গ্রহের মর্যাদা হারায় প্লুটো। তারপরও একে নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই বিজ্ঞানীদের। তাই ২০০৬ সালে নিউ হরাইজনস মিশন শুরু করে নাসা। ২০১৫ সালে প্লুটো ও এর চাঁদগুলো প্রদক্ষিণ করে ছবিসহ নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত পাঠায় পৃথিবীতে।
সৌরজগতের প্রান্তে হিমায়িত বামন গ্রহটির অমসৃণ ভূপৃষ্ঠে আছে হিমবাহ, পাহাড়, টিলা আর কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত বড় ফাটল।
এবার নতুন ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্লুটোর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠে দেখা গেছে একাধিক বরফে ঢাকা আগ্নেয়গিরি। এ ঘটনা সৌরজগতেই বিরল। আগ্নেয়গিরিগুলো দেখে বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্লুটো এখনো জীবিত।
তারা মনে করছেন, গ্রহটির ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকতে পারে পানির প্রবাহ। তলদেশে প্রায় ১শ থেকে ২শ কিলোমিটার মহাসাগর থাকার সম্ভাবনাও নাকচ করছেন না তারা।
বরফাবৃত সবচেয়ে বড় দুটি আগ্নেয়গিরি নাম রাইট মনস ও পিকার্ড মন। রাইট মনসের উচ্চতা ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ও চওড়ায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার। পিকার্ড মনসের উচ্চতা ৭ কিলোমিটার, প্রস্থে এটি ২২৫ কিলোমিটার।
ভবিষ্যতে প্লুটোতে বরফভেদী রাডার ব্যবহার করে বরফের আগ্নেয়গিরি ও প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হতে পারে বলেও আভাস দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।