এক বা দুই বছর নয়, ২০ বছরেও জোড়া লাগেনি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ও ভাওরখোলা ইউনিয়নের সংযোগ খিরার চক সেতুটির। ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের নিত্য ভোগান্তি হয়ে এটি অবহেলার পড়ে আছে। এই সেতু সংযোগ সড়ক এবং সেতুটির বেহাল দশা হওয়ায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙা সেতুর ওপরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নিত্য যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, নিত্যপ্রযোজনীয় ভারী পণ্যসামগ্রী নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। উপজেলার ভাওরখোলা-কদমতলী, মির্জানগর ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সেননগর ও আলীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের বিকল্প সড়ক হিসেবে সংযোগহীন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এ সেতু। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ১০ গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছেন। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে, কেউ কেউ সেতু থেকে পড়ে যাচ্ছেন খালে; বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী এবং নারী ও শিশুরা। সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। তারা বলছেন, তাদের এই ভোগান্তির কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও লাভ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেতুটি ২০ বছর আগে নির্মাণ হয়। সেতু নির্মাণের সময় নতুন রাস্তা তৈরি কিংবা মেরামত করা হয়নি। তারপর বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যানকে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার কথা জানালেও আশা দিয়ে কেউ এটি সংস্কার করে দেননি। ফলে আজ সেতুটি ভেঙে ঝুলে পড়ে রয়েছে।
আছমা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, অনেকদিন ধরে আমাগো এই পোলডা ভাইঙ্গে পড়ে রইছে। খিরার চক বাজারে আশপাশের মানুষের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে যাতায়াত করতি পারি না। এইডা হচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোল, এইখান দিয়ে অনেক লোক যাওয়া আসা করে। আপনারা যদি পারেন, দয়া করে এই পোলডা ভালো করে দেন। আমরা অনেকেরে জানাইছি, তারা সমাধানের কিছু করে না।
খিরাচক গ্রামের রমিজ উদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় অনেক জায়গায় রাস্তা নেই কিন্তু ব্রিজ আছে, আর আমাদের এমন একটা বাজার সংলগ্ন ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে দেখার কেউ নাই। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাজার হাজার মানুষের চলাচলের এ ব্রিজ এভাবে ভেঙে ঝুলে আছে জরুরি ভিত্তিতে এখানে স্থায়ীভাবে আধুনিক সেতু নির্মাণ করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ জানান, এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অচিরেই এ সমস্যা সমাধান করা হবে। স্থায়ীভাবে সমাধান করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসেতুটি পরিদর্শন করে গেছেন বলেন জানান এ কর্মকর্তা।