সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগময়না গ্রামে রাস্তার মাটি ভরাট কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য তেরা মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিলাদুর রহমান (৩২) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। পরে তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তেরা মিয়া বাগময়না গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার মাটি ভরাট কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। ওই কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সমাজসেবক জাকির হোসেন গত ২৮ জুলাই জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার (১৬ আগস্ট) অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে যান জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিমুল আলী। তদন্ত চলাকালে রাস্তার কাজের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে মিলাদুর রহমান কথা বললে ইউপি সদস্য তেরা মিয়া ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তেরা মিয়ার নেতৃত্বে তার সহযোগীরা মিলাদুর রহমানের ওপর হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তেরা মিয়া, তার সহযোগী মাখন মিয়া ও তার ছেলে রুবেলসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। তারা মিলাদুর রহমানকে মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আহত মিলাদুর রহমান বলেন, “মেম্বার তেরা মিয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার লোকজন আমার ওপর হামলা করেছেন। এতে আমি আহত হয়েছি। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে সুবিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য তেরা মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।