আট বছর বয়সী মেয়েকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে হাওরের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন মো. বাছির উদ্দিন (৪০) নামের এক ব্যক্তি। প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে নিরাপদে তুলে দিতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত তীব্র স্রোতের কারণে নিজে আর ফিরে আসতে পারেননি।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওর এলাকায়, মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর সেতু সংলগ্ন ডুবুডুবু সড়কে।
নিহত বাছির উদ্দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোলপাম্প এলাকার আবু বাক্কার মাস্টারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে পরিবার নিয়ে বালিখলা হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান বাছির উদ্দিন। একপর্যায়ে করিমগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমান্তে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর সেতু সংলগ্ন একটি ডুবুডুবু সড়কে নৌকা থেকে নেমে গোসল করছিলেন তাঁরা। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তাঁর আট বছর বয়সী মেজ মেয়ে শেমন্ত্রী আক্তার।
মেয়েকে ডুবে যেতে দেখে কোনো দ্বিধা না করে পানিতে ঝাঁপ দেন বাছির উদ্দিন। প্রাণপণ চেষ্টায় তিনি মেয়েকে নিরাপদে সড়কে থাকা অন্যদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে নিজে আর ওপরে উঠতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কিছুক্ষণ পর তাঁর মরদেহ পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।