জগন্নাথপুরে উপবৃত্তির কথা বলে এক ছাত্রীকে ডেকে এনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক শামসুল হুদার বিরুদ্ধে। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক শামসুল হুদা
২ মে (শনিবার) মাদ্রাসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ডেকে আনেন। এরপর শিক্ষক মিলনায়তনে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন শিক্ষককে আটক করে মাদ্রাসায় মারধর করেন। পরে তাকে আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শামসুল হুদার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালে যোগদানের পর আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে থানায় মামলা হলে তিনি বরখাস্ত হন। তবে ২০১৮ সালে গভর্নিং বডির মাধ্যমে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম নিজামী বলেন, ঘটনার সময় তারা কেউ মাদ্রাসায় ছিলেন না। অভিযোগ পাওয়ার পর তারা বৈঠক করেন। ওই সময় শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে শিক্ষার্থীর স্বজনরা এসে তাকে মারধর করেন, এতে তিনি আহত হন।
জগন্নাথপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায় বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠানটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।