আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, মসুর ডালসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, যা ক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।
১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক তালিকায় দেখা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১৮০–১৯০ টাকা এবং এক মাস আগে ১৭০–১৮০ টাকার মধ্যে ছিল।
ভোজ্যতেল ও ডালের দামের উর্ধ্বমুখী প্রবণতিও দেখা গেছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫–১৯৫ টাকায়, বোতলজাত ২ লিটারের সয়াবিন তেল ৩৯০–৩৯৫ টাকায়, আর ৫ লিটারের বোতলজাত ৯৫০–৯৫৫ টাকায়। প্রতি কেজি জিরা ৬৪০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রান্তিক খামারিরা ডিম উৎপাদনে লোকসান ভোগ করছেন। উৎপাদন খরচ ৯.৫ টাকা হলেও খামার পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬.৫ টাকায়। খামারিরা বলছেন, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারা বাড়তি দামে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক প্রান্তিক খামার লোকসানজনিত কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ তুলনামূলক কম দামে ডিম ও মুরগি খেতে পারছে প্রান্তিক খামারির শ্রমের কারণে। তবে খামারিরা সংকটে পড়লে পুরো শিল্প কয়েকটি করপোরেট কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবে, যা বাজারে ভোক্তার জন্য স্বাভাবিক মূল্যে পণ্য ক্রয়কে প্রভাবিত করবে। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের সহায়তা করা হোক।
অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোলট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাজারে স্বচ্ছতা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো না হলে ছোট খামারিরা দ্রুত ঝরে পড়বে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতে, দেশে পোলট্রি খামারের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে সম্প্রতি অনুমোদিত পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা এই খাতের সুরক্ষায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।