নিরাপত্তাজনিত কারণে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেবাপ্রত্যাশীদের এখন সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
ঢাকায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজে যুক্ত শিউলী আকতার জানান, তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা না যেতেই তাকে পৈতৃক বাড়ি রাজশাহীতে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঢাকায় থাকলেও মায়ের মৃত্যুনিবন্ধন করতে পৈতৃক বাড়িতে যেতে হবে। এজন্য রাজশাহী যাব।”
গত নভেম্বর থেকেই অনলাইনে নতুন মৃত্যুনিবন্ধন, প্রিন্ট বা পুনঃমুদ্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবুল হাসান নামের এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, সিস্টেমের বেশ কিছু লিংকে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। তিনি জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রতিটি দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করেছেন, তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জন্মনিবন্ধনে সমস্যা না থাকলেও প্রায় তিন মাস ধরে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন বন্ধ। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগে আবেদন অনলাইনে করা যেত, পরে কার্যালয়ে সনদ সংগ্রহ করা হতো। এখন শিউলী আকতারের মতো অনেককে সরাসরি কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
মৃত্যুনিবন্ধন সনদ সরকারি ভাতা, উত্তরাধিকার, পারিবারিক সম্পত্তি, পেনশন, জমিজমা বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজন। কোনো মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে তা করাতে হয়। ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে ফি নেই, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ২৫ টাকা, ৫ বছর পর ৫০ টাকা, তথ্য সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হয়।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয় সরকারি ওয়েবসাইটে (https://bdris.gov.bd/
), যেখানে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রয়োজন। মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির খবর পাওয়ায় ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন বন্ধ করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, নিরাপত্তার কারণে শুধুমাত্র মৃত্যুনিবন্ধন অনলাইনে বন্ধ। নিবন্ধন কার্যালয়ে আবেদন করতে কেউ বাধা পাচ্ছেন না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে নতুন আবেদন খুলে দেওয়া হতে পারে, যেখানে আবেদনকারীর মুঠোফোনে ওটিপি যাচাই ব্যবস্থাও থাকছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি সারা দেশে ৪,২১০টি মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি ছিল সংশোধনের আবেদন।