বাগেরহাটের মোংলায় সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিট পুলিশিংয়ের আওতায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ রেফাতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শাহরিয়ার আলম, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ দেওয়ান জিয়াউর রহমান, মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান শাহীন এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন।
এ ছাড়া সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সবার সক্রিয় অংশগ্রহণে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাস জরুরি। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষ সচেতন হলে এবং সময়মতো সঠিক তথ্য দিলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। এ সময় সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য বড় ধরনের ক্ষতিকর সমস্যা। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএসপি মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ‘আপনার পুলিশ আপনার পাশে’—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অপরাধের তথ্য গোপনে পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভা শেষে বক্তারা সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।