শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে দেশজুড়ে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব। তার মতে, “আমরা যে কোনো সময় ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হতে পারি।”
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়েছেন—ঢাকায় তিন, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দুইজন করে এবং নরসিংদীতে পাঁচজন। সারা দেশে আড়াই–চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি অনুভব করা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ এবং উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়।
অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, “আজকের ভূমিকম্পটি আরও ভয়ংকর হতে পারত—আমরা অলৌকিকভাবে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছি। বাংলাদেশ যে টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত, সেখানে ৭ বা ৮ মাত্রার ভূকম্পন হওয়া অস্বাভাবিক নয়—অতীতেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।”
তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ১৮৯৭ সালের আসাম–মেঘালয়ের ভূমিকম্পে বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছিল ৮ দশমিক ৭ মাত্রায়; পাশাপাশি কাছার এলাকার কম্পন ছিল ৮ মাত্রার এবং আরাকান অঞ্চলের কম্পন ছিল ৮ দশমিক ৫।
তার ভাষায়, “রেকারিং পিরিয়ড হিসেবে শত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ৮ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় হতে পারে—সেজন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।”
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, বিগত কয়েক দশকে ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্পগুলোর তুলনায় এবারটির শক্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে উৎপন্ন সেসব কম্পনের মাত্রা সাধারণত ৪ থেকে ৫ হলেও, বর্তমান ভূমিকম্পটি ছিল দেশীয় উৎসের এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল বড় ভূমিকম্পপ্রবণ। তাই ভবিষ্যতেও শক্তিশালী কম্পন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার জানান, এর আগে ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটির বরকল এলাকায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশে দেশীয় উৎপত্তিস্থলে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯১৮ সালে—এর মাত্রা ছিল ৮।
তার মতে, “সরকারকে বহুবার বলা হয়েছে যে ভূমিকম্প–মহড়ার বিকল্প নেই। উদ্ধারকাজে বিপুল বাজেট রাখা হলেও প্রস্তুতি বা মহড়ার ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায় না।”