ঢাকাFriday , 21 May 2021
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

ঝড়-বৃষ্টি গরম হাওয়ার পুড়লো কৃষকের স্বপ্ন

Link Copied!

সাধন রায় (লালমনিরহাট প্রতিনিধি) হঠাৎ ঝড় ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় লালমনিরহাট বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দূর থেকে ধান গাছগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও ছড়ায় থাকা ধানগুলো চিটে হয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে লালমনিরহাট জেলার ৪টি উপজেলায় ৫৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।ঋড়ো বাতাসে এবং হিট স্ট্রেজের ফলে লালমনিরহাট ৪টি উপজেলায় ৪৪২ দশমিক ৬ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে, সব থেকে লালমনিরহাট সদরের চাষিদের সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই সদরে ২০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সদর উপজেলা। এই উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মহেন্দ্রনগর ৮০, কুলাঘাট ৪০, মোগলহাট ২০, টিকটিকির বাজারন১০, সোলাইমান ইসলাম ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে শরণখোলা ও মোংলায় সামান্য কিছু জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় সহ্রসাধিক কৃষক আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে দাবি করেছেন কৃষকেরা।

#New_Classic_Event_Management

লালমনিরহাট আদিতমারি উপজেলার সাপটিবাড়ি আদশবাজার বিলে ধান লাগানো কৃষক রনজিত বলেন, খুব আশা করে ধান রোপণ করেছিলাম। এক ৩০ দিনের মধ্যেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু এখন ধানের যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ঝড়ের পরে ধানের কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যাই।কৃষানী লোপা মণ্ডল বলেন, নগদ-বান্দায় জমি রেখে ধান লাগিয়ে ছিলাম। কিন্তু ধানগুলো নষ্ট হয়ে গেল। ধানের কাছে আসলে চোখ থেকে শুধু জল বের হয়। কিভাবে চলবো এখন। সংসারে ৬ জন লোক প্রতিদিন কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। শুধু তো আমার নয়, এলাকার অনেকেরই এই অবস্থা। কি যে হবে ভগবানই জানেন।কৃষানী রত্না বৈরাগী বলেন, অনেক আশা করে ধান লাগিয়ে ছিলাম। ধান কাটবো, বাড়িতে নিবো। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে বছর ভরে খাবো। কিন্তু ঝড়ে আমাদের শেষ করে দিয়ে গেল। ধানের বাহির হতেই না হতেই এসে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । এখন কিভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাঁচবো, কিভাবে চলবো এই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। বহঠাৎ ঝড়ে আমাদের শেষ করে দিয়ে গেছে। করোনায় সব কাজ বন্ধ, আয়ও বন্ধ একেবারে। ভরসা ছিল ধানের ওপর, তাও শেষ হল ঝড়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক বদিয়ার ইসলাম বলেন,ঝড়ো বাতাস ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কারন বিভিন্ন উপজেলায় কিছুকিছু ধান ক্ষেত হিটস্ট্রেস জনিত কারণে ধানের ফুলস্তরের শীষ সাদা হয়ে গেছে। জেলায় ৪৪২ দশমিক ৬ হেক্টর জমির ধান আক্রন্ত হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এটি সাময়িক আক্রান্ত, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশিরভাগ রিকভার করা সম্ভব। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষকদের পরিমিত সেচ প্রদান ও যৌক্তিক পটাশ স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি