ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়নের ছোট কাউনিয়া কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কথিত দলিল লেখক রাশেদ খানের বিরুদ্ধে জোর পূর্বক অন্যের জমি দখল ও দলিল লেখক হিসেবে জাল দলিল তৈরী সহ বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দাম দেখানোর মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৫০ এর অধিক জমি ক্রেতা ও বিক্রেতার সাথে প্রতারণা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে রাশেদের প্রতারনায় বিপাকে পড়া ভুক্তভোগী জনসাধারণ ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ ও জিডি করেছেন। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা। রাশেদ উপজেলার কাউনিয়া কান্দি গ্রামের মৃত সুলতান খানের ছেলে।
রাশেদ খানের প্রতারনায় ভুক্তভোগী উপজেলার কাঞ্চন নগর এলাকার মৃত মধুসূধন সরকারের ছেলে গোপাল সরকার বলেন,রাশেদ খান আমার ভোগ দখল কৃত ১২ শতাংশের অধিক জমি নকল কাগজ তৈরী করে জোর পূর্বক দখল করেছে। সে আমাকে বলে তোর বাবা আমার কাছে এই জমি বিক্রি করেছে। এব্যাপারে আমি প্রতিবাদ করলে সে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
অপর দিকে উপজেলার কান্দা বাড়িল্লা গ্রামের সঞ্জয় মন্ডল, ছোট কাউনিয়া কান্দি গ্রামের বিপ্লব মন্ডল,সান সরকার, সোনা বাজু এলাকার কাইয়ুম,দাউদপুর গ্রামের লক্ষণ হালদার,বারুয়াখালী গ্রামের মো.মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক জমি ক্রয়ের জন্য দলিল লেখক রাশেদ খানের নিকট রেজিষ্ট্রি ফি উৎস কর,লেখার ফিস বাবদ নগত টাকা প্রদান করি কিন্তু দলিল লেখক রাশেদ আমাদের সহ আরো প্রায় ৫০ এর অধিক জমি ক্রেতার দলিলে জমির প্রকৃত মূল্যে ও বর্তমান বাজার মূল্যে গোপন করে কম দাম দেখিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে সবাই কে দলিলের ফটোকপি দেয়। পরবর্তী সময়ে আমরা আসল দলিল হাতে পেয়ে দেখি ক্রয় করা দামের চেয়ে অনেক কমমূল্য লেখা আছে মূল দলিলে।
বিক্রেতা ও ক্রেতা লেখাপড়া না জানার কারনে বিষয়টি বুঝতে পারেনি। অভিযোগকারীগণ আরো বলেন,আমরা জমির মূল দলিল হতে পাওয়ার পর রাজস্ব ফাঁকির বিষয় টি আমাদের নজরে আসে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার বিরুদ্ধে আমরা নবাবগঞ্জ থানার দলিল লেখক সমিতি সহ আরো একাধিক জায়গায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
অপর দিকে এবিষয়ে অসংখ্য জমি ক্রেতা ও বিক্রেতা সহ বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান এমএ বারী বাবুল মোল্লা লিখিতভাবে কথিত প্রতারক দলিল লেখক রাশেদের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উপজেলা দলিল লেখক সমিতি, উপজেলা প্রশাসনসহ জমি রেজিষ্ট্রি বিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে রাশেদ খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলার বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান এমএ বারী বাবুল মোল্লা বলেন,রাশেদ খানের বিরুদ্ধে জুয়া খেলা, মাদক বিক্রি ও সেবন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সরকার বিরোধী অপপ্রচার সহ জাল দলিল জোর পূর্বক জমি দখল ও অসংখ্য মানুষের সাথে প্রতারনা ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সহজ সরল মানুষের জমির দলিল করে দিয়ে অর্থ লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় অসংখ্য অভিযোগ ও জিডি করেছেন প্রতারিত ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ আমরা তার দলিল লেখার লাইসেন্সটি বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার দৃষ্টি আর্কষণ করছি।