জগন্নাথপুরে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় বাজারে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ।
রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজারে গত দুই দিন ধরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হঠাৎ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও স্থানীয় দোকানগুলোতে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। হঠাৎ সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজার বা সরকারি মূল্য সমন্বয়ের অজুহাত দেখিয়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। এতে নিয়মিত রান্নার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোক্তারা মনে করছেন, উপজেলায় নিয়মিত সরকারি নজরদারি ও বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জগন্নাথপুরের প্রতিটি বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
