দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন না পাওয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দাবির নিষ্পত্তি না হওয়ার অভিযোগে কলকাতা পুরসভার সামনে পথ অবরোধে শামিল হলেন পশ্চিমবঙ্গের পৌর স্বাস্থ্যকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ কলকাতা পুরসভার ৩ নম্বর গেটের সামনে জমায়েত হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এআইইউটিইউসি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী কন্ট্রাকচুয়াল ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন আশা কর্মী।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন-সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁরা বারবার পুর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এবং লিখিতভাবেও সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর সমাধান হয়নি। তাঁদের আরও দাবি, অন্যান্য কর্মীরা বেতন পেলেও তাঁরা এখনও প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
চার মাস ধরে বেতন বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ
আন্দোলনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য, গত চার মাস ধরে নিয়মিত কাজ করেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা জমা পড়েনি। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত কাজের বাইরেও অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। অথচ বেতনের পাশাপাশি মোবাইল বিল ও ইনসেনটিভ বোনাসও দেওয়া হচ্ছে না।
এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা সারাদিন রোদে পুড়ে মানুষের জন্য কাজ করছি। অথচ মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছি না। আমাদেরও সংসার রয়েছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ রয়েছে। বেতন না পেলে সংসার চালাব কীভাবে? বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হচ্ছে না।”
পুজোর আগে আর্থিক অনিশ্চয়তা
দুর্গাপুজো আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে বেতন না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানো নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তাঁদের কথায়, অন্যান্য পরিবারের মতো তাঁদের বাড়িতেও পুজোকে ঘিরে আনন্দ ও প্রত্যাশা রয়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন জামাকাপড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কাজ করেও হাতে টাকা না আসায় তাঁদের সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তাঁরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। তাঁদের দাবি, বেতন বৃদ্ধি করা হয়ে থাকলে চার মাসের বকেয়া বেতন কেন এখনও মেটানো হয়নি, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল বিল ও ইনসেনটিভ বোনাসের বকেয়াও অবিলম্বে মেটানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশাসনের আশ্বাসেও অবরোধ তুলতে নারাজ কর্মীরা
ঘটনাস্থলে প্রশাসনের তরফে আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের নিয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।
তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচিতে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের কথায়, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি। বারবার দাবি জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। এবার আর শুধু আশ্বাসে আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব না। আমাদের প্রাপ্য টাকা মেটাতেই হবে।”
