যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি কথিত ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলে এসব কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কথিত ওই চক্রের মাধ্যমে অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় বা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, টেন্ডার প্রক্রিয়া, কেনাকাটার তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে তারা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।
চার সদস্যের অনুসন্ধান দল
অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে দুদক। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। দলের অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপ-সহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।
দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পদোন্নতি-বদলি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ
এদিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ঘিরে পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও দুদকের নজরে এসেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, পদোন্নতি, বদলি-বাণিজ্য ও পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ কমিশনে এসেছে। অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।