সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি আফরিন জাহান।
সভায় বেলকুচি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, যানজট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর গত সভার কার্যবিবরণী পাঠ এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। কার্যবিবরণীতে কোনো সংশোধনী না থাকায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিক্রমে তা অনুমোদন করা হয়।
সভায় গত মাসের তুলনামূলক অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জেনারেল সার্টিফিকেট মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, গ্রাম আদালতের মামলা, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), বেলকুচি জানান, উপজেলায় আগের তুলনায় মাদকের প্রবণতা বেড়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন দিবস, সভা-সেমিনার ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বেলকুচির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা চোর আটক হওয়ার পর অনেক সময় বাদী মামলা করতে এবং সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী হন না। ফলে আসামি আটকের পর পুলিশকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সবাই মাদক নির্মূল চায়, কিন্তু অনেকেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চান না। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, চেয়ারম্যানসহ সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকসহ সব ধরনের সামাজিক ব্যাধি নিরসনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুন মাসে বেলকুচি থানায় মাদকসংক্রান্ত ৬টিসহ মোট ১৩টি মামলা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, বেলকুচিসহ সারাদেশে মাদক এখন অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা। মাদক আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কারও একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মাদক নির্মূলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ পুরো উপজেলা নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদকের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজন এবং মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে আলোচনা হয়। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এদিকে মুকুন্দগাঁতী বাজারের যানজট নিরসনে গড়ানের দুই পাশে গার্লস স্কুল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাটের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। কোনো শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বনি আমিন, বেলকুচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইউএলও ডা. নাজমুল হক, ২ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।