সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত কাজ না করে অর্থ ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোছা. হাবিজা (৬৩) নামে এক নারী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলকুচি উপজেলার চালা উত্তর এলাকার বাসিন্দা হাবিজার ছেলে মো. আসাদুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মো. আব্দুল আউয়াল ওরফে আলাম দালাল (৪৫), মো. এন্তাজ আলী (৭২) ও মো. সেরাজুল ইসলাম (৪০)। এ ছাড়া আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আসাদুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ভারত হয়ে ফ্লাইটে রওনা করানো হয়। ৪ জানুয়ারি সকালে তিনি মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন জানিয়ে অভিযুক্তরা হাবিজার কাছ থেকে ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এর কিছুদিন পর আব্দুল আউয়াল ওরফে আলাম হাবিজাকে তার ছেলে আসাদুলের হ্যান্ডকাফ পরা একটি ছবি দেখিয়ে জানান, তিনি মালয়েশিয়ায় আটকা পড়েছেন। তাকে ছাড়িয়ে আনতে আরও ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে গত ১৭ জানুয়ারি সকালে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ২৮ জানুয়ারি অভিযুক্তরা একটি টিকিট দেখিয়ে আসাদুল দেশে ফিরছেন বলে জানালেও তিনি দেশে ফেরেননি বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরবর্তীতে ১১ মার্চ আসাদুল নিজেই বাড়িতে ফিরে আসেন।
হাবিজার অভিযোগ, ছেলে দেশে ফিরে আসার পর অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে নেওয়া মোট ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় বেলকুচি উপজেলার চালা এলাকার পলাশ মার্কেটের সামনে অভিযুক্তদের সঙ্গে হাবিজার দেখা হলে তিনি তার টাকা ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি এ বিষয়ে কোথাও অভিযোগ বা মামলা করলে মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন হাবিজা।
অভিযোগে মো. তোফাজ্জল ও মোছা. তারিমা খাতুনসহ স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোছা. হাবিজা বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর আশায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। এখন ছেলে দেশে ফিরে এলেও আমার দেওয়া টাকা ফেরত পাচ্ছি না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত প্রথম ব্যক্তি আব্দুল আউয়াল দাবি করেন, তিনি হাবিজার ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার টাকা ফেরত দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বেলকুচি থানার এসআই মামুন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বসে একটি সুষ্ঠু ও সঠিক সমাধান করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।