ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় বক্সনগর এলাকায় পূর্ণিমা মণ্ডল নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পূর্ণিমার স্বামী প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। পরদিন সকালে পূর্ণিমার বাবা তাকে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমা স্বামীর কক্ষে প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ ছিল। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির এক নারী জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, ঘরের ফ্যানের সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে পূর্ণিমা ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করা হলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর স্বামী প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সকালে পূর্ণিমা স্বামীর বাড়িতে এসে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন। জানালা দিয়ে দেখে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।”
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পূর্ণিমার বাবা ও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলার মতো অবস্থায় না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।