ঢাকাWednesday , 17 June 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

সিসিটিভিতে খুনের দৃশ্য – শনাক্ত পাঁচ বন্দুকধারী

Link Copied!

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে অভিযান চালিয়েও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

#New_Classic_Event_Management

১৪ জুন রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।


স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত রায়হান বাহিনীর সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। রায়হানকে স্থানীয়ভাবে রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে রায়হান ও তার সহযোগীরা বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদদেরও দাগি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি এবং মাকসুদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাউজানে যারা চাঁদাবাজি ও খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পুলিশ কেন ধরছে না? অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তারে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।”

#New_Classic_Event_Management

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সিসিটিভিতে পাঁচ অস্ত্রধারী

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— কদলপুর এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদারুল মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে এসে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচটি হত্যাসহ ১৮টি মামলা। ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পাহাড়ে নিরাপদ আশ্রয়

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাউজানের পূর্ব সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাহাড়তলী, কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গত বছরের আগস্টের পর সংঘটিত অধিকাংশ খুন ও সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা আবার পাহাড়ের গোপন আস্তানায় ফিরে যায়। মাকসুদুল হত্যার সঙ্গে জড়িতরাও একইভাবে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের দাবি, দ্রুত গ্রেপ্তার হোক

নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “আমাদের পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। কারা এবং কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। তবে সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন সহজ হবে।”

বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা

এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মাকসুদুল রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বাজারসংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকার কয়েকটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, তদন্তে এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জানাজায় মানুষের ঢল

রোববার বিকেলে বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে মাকসুদুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তার মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন।

জানাজার আগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী বলেন, “প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও উত্থাপন করা হবে।”

নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক স্বপন বলেন, “জানাজায় মানুষের উপস্থিতিই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ। অথচ হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। আমরা দ্রুত বিচার চাই।”

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া পাঁচজন বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি