বাগেরহাটের সুন্দরবনে পৃথক দুইটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একইসঙ্গে জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দাকোপ থানার বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের আস্তানাও ধ্বংস করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. সোহাগ হাওলাদার (৩৫), বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা এবং বাবুল সানা (৪২), খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি অভিযানে জোনাব বাহিনীর কবল থেকে তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৩১ মার্চ সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকা থেকে একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে জোনাব বাহিনীর সদস্যরা।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও স্টেশন কৈখালী যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে জিম্মি থাকা একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও একটি কুড়াল জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন— ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫); তারা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, গত দেড় বছরে ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবন এলাকায় বিভিন্ন ডাকাত বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ করা হয়। একই সময়ে দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।