ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। এদিন ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-র পক্ষে সিল দিয়ে মতামত জানাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হলেও ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের অধিকাংশ ভোটার এখনো গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।
সরেজমিনে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে জানেন নির্বাচনের দিন আলাদা একটি ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে। তবে গণভোটের প্রস্তাবিত বিষয়, বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’-এ কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই বেশিরভাগ মানুষের। স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, প্রচারণা হলেও তা মূলত দলীয় অবস্থানকেন্দ্রিক; গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নামের পাশে নম্বর থাকলেও গণভোটের ব্যালট পেপারে কোনো নম্বর না থাকায় ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে ভোটকেন্দ্রে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও গণভোট ঘিরে রয়েছে ভিন্নমুখী অবস্থান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো ‘না’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে থাকলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা শোনা যাচ্ছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—গণভোটের বিষয়বস্তু ও প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর করতে আরও কার্যকর প্রচার-প্রচারণা ও তথ্যপ্রদান জরুরি।