ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী।
রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের অনুমতি পেয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি মোটরসাইকেলটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণে বাইক চালানো বন্ধ করে দেন এবং মোটরসাইকেলটি বাসায় পড়ে ছিল। এরপর তিনি সেটি একটি শোরুমে বিক্রি করেন এবং পরে নাম পরিবর্তন করে দেবেন বলে জানান। দুই মাস পর নাম পরিবর্তনের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি শোরুমে যেতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে সঠিকভাবে তদন্ত করার অনুরোধ করেছিলেন এবং প্রয়োজনে তাকে শোরুমে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। তবে পুলিশ তা না করে তাকে মামলায় আটক করে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো জড়িত থাকা নেই এবং তিনি নির্দোষ।
শুনানি শেষে বিচারক তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়েছে এবং তদন্তে এর মালিক হিসেবে হান্নানের নাম পাওয়া গেছে। কীভাবে মোটরসাইকেলটি হামলাকারীদের কাছে গেল এবং মালিক হয়েও তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী— তা জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মোটরসাইকেলের নম্বর যাচাই করে মালিক হিসেবে হান্নানের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলার পেছনে একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে এবং হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হান্নানকে আদালতে হাজির করা হয়। শুরুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হলেও পরে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।