বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে ‘শানে তাওহীদ’ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহাসমেলনে লালন তিরোধান দিবস বাতিল, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, তৌহিদী জনতার মামলা প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জেলা শহরের বিজয় মেলার মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামা অংশ নেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম মানিকগঞ্জের সভাপতি মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাঈদ নূর। প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও মধুপুর পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন—“ওলামায়ে কেরামকে হয়রানি করা হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” এছাড়া তিনি লালন তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস থেকে বাতিল করার দাবি জানান।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, যুগ্ম মহাসচিব খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, ইসলামী গবেষক মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমীসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা মত প্রকাশকে স্বাধীনতা হিসেবে দেখা যায় না। বাউলদের কিছু বক্তব্যকে তারা ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলাম মানিকগঞ্জের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল হান্নান পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
- ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন।
- ইসলামের নামে বিকৃত বা ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার বন্ধ।
- ওরশ, মাজার ও মেলায় মাদক ও অশ্লীলতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা।
- ১৭ অক্টোবর ‘লালন তিরোধান দিবস’ বাতিল।
- তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে মামলা–হয়রানি বন্ধ ও করা মামলা প্রত্যাহার।
বক্তারা আরও বলেন, বাউল আবুল সরকারের বক্তব্যে জনমনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহাসম্মেলন সমাপ্ত হয়।