ঢাকার দোহার উপজেলার খাড়াকান্দা এলাকায় চলতি বছরের ১৬ মে নাঈম হোসেনের করা গণধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের দেহ থেকে কোনো বীর্যের উপাদান শনাক্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মে রাতে জোর করে নাঈম হোসেনের মেয়েকে তুলে নিয়ে একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় জয়পাড়া চৌধুরীপাড়ার মনি (২২), দক্ষিণ জয়পাড়ার মুশফিকুর অপু (২২), একই এলাকার আবির হোসেন (২০) এবং আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। তবে নমুনা সংগ্রহের চার মাস পর প্রকাশিত ডিএনএ রিপোর্টে কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এরপর আসামিপক্ষ অভিযোগ তোলে যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং তারা বাদিসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেন।
প্রথম আসামি মনি’র বড় ভাই মো. জনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাইকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং ডিএনএ রিপোর্টই তা প্রমাণ করে। তার দাবি, মামলার বাদীর মেয়ে ইয়াবা সেবন ও অনৈতিক কাজে জড়িত—এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়ের এসব কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার এবং মিথ্যা মামলার দায়ীদের শাস্তির আবেদন জানান।
অন্য আসামি আবির হোসেনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার দিন তার ছেলে এলাকায় ছিল না, তবুও তাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিপা আক্তার বলেন, মামলা আবার নির্ধারিত তারিখে ট্রাইব্যুনালে উঠলে তারা বিশ্বাস করেন আদালত মামলাটি খারিজ করবেন। এরপর তারা মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, এ ধরনের মিথ্যা মামলায় অনেক নিরীহ মানুষ জেল খাটেন—তাই সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে নাঈম হোসেনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইলে বারবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।