ঢাকাMonday , 17 November 2025
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ফাঁসির আদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
November 17, 2025 3:59 pm
Link Copied!

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

#New_Classic_Event_Management

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয় এবং প্রথম অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করে যে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। একইসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধেও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন সত্য উদ্ঘাটনে রাজসাক্ষী হওয়ায়, সর্বোচ্চ দণ্ডযোগ্য অপরাধ থাকলেও তার শাস্তি হ্রাস পাবে।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এখানেই জুলাই মাসের ঘটনাবিষয়ক প্রথম মামলাটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হয়। সেই বছরের ১৭ অক্টোবর নতুন ট্রাইব্যুনালের প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মামলায় একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনের আবেদনে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোট পাঁচটি ধারায় অভিযোগ উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১২ মে তদন্ত সংস্থা তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়—৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা, দালিলিক প্রমাণ ও নিহতদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১ জুন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ১০ জুলাই আদালত তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।

একপর্যায়ে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তার চূড়ান্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন অবশ্য তাদের খালাস চান। পরে আদালত জানায়, রায় ঘোষণার তারিখ ১৩ নভেম্বর জানানো হবে।

মামলার অভিযোগগুলো সংক্ষেপে

১ম অভিযোগ:
১৪ জুলাই গণভবনের এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সহায়তায় নিরস্ত্র জনতার ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়; এতে দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার আহত হন—এ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

২য় অভিযোগ:
হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

৩য় অভিযোগ:
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকেই অভিযুক্ত করা হয়।

৪র্থ অভিযোগ:
চানখাঁরপুলে ছয়জন নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

৫ম অভিযোগ:
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি