জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জুলাই আহত যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জুলাই যোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রনেতা মাজেদুল হক।
রবিবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এলডি হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই আহত যোদ্ধাদের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, উপস্থিত ছিলেন সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
বৈঠকে মাজেদুল হক বলেন,
“জুলাই আহত যোদ্ধারা রাষ্ট্রের জন্য লড়েছে- তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জুলাই সনদের ৫নং দফা সংশোধনের পর এটি সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের অনেক আহত সহযোদ্ধা স্বাস্থ্য কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মানবিকতার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে সব হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারকে নির্দেশনা জারি করতে হবে।” পাশাপাশি জুলাই সনদ সংশোধনের পর তা আইনি ভিত্তি দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিতে হবে। এবং পরবর্তিতে যারাই সরকার গঠন করুক তাদের হাইকোর্টে রিড্রেস এর ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
বৈঠকে জুলাই যোদ্ধারা আইনি সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা, ও তাদের আইডি কার্ড প্রদানের দাবি জানান। তারা ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত; স্বৈরাচারের দোসরদের উস্কানিতে পরিস্থিতি জটিল হয়।”
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই যোদ্ধাদের উত্থাপিত প্রতিটি দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- মাজেদুল হক, মোঃ সোহাগ মাহমুদ, কামরুল হাসান, মোঃ আল-আমিন, মুস্তাঈন বিল্লাহ হাবিবী, হাসিবুল হাসান জিসান, মারুফা মায়া, আহাদুল ইসলাম, মোঃ সাগর উদ্দিন, মোঃ দুলাল খান, মোঃ নাহিদুজ্জামান, ইমরান খান, ও নুসরাত জাহান।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল মনে করছে, নাটোরের বড়াইগ্রামের জুলাই যোদ্ধা এবং সাবেক ছাত্রনেতা মাজেদুল হক- এর এই উদ্যোগ জুলাই আহত যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি এবং মর্যাদা নিশ্চিতের আন্দোলনে নতুন গতি আনবে।